পাবনার ফরিদপুর উপজেলা-র পুংগলী ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জমিন উদ্দিন ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা সুবুজ মোল্লার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ।
অভিযোগে জানা যায়, সরকারি বিভিন্ন ভাতা—বিশেষ করে ভিজিডি, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক অসহায় পরিবার এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব ও অনিয়মের কারণে অনলাইন সেবা পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
তদন্তে একটি দালাল চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়ও সামনে এসেছে, যারা বিভিন্ন ভাতা ও সেবার বিনিময়ে টাকা আদায় করছে। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব জমিন উদ্দিন বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কিছু অসন্তুষ্ট ব্যক্তির অপপ্রচার। তার দাবি, সকল কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযোগ এত গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও কেন এতদিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? পূর্বে অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।
Reporter Name 








