ঢাকা প্রতিনিধি: বিআইডব্লিউটিসি-তে আলাউদ্দিন গংয়ের প্রতিনিয়ত চাকুরি বিধি লংঘন করে মব সৃষ্টি করে কাজের পরিবেশ নষ্টের অভিয়োগ উঠেছে !
চব্বিশের ৫ই আগস্ট হতে বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের তথাকথিত নেতা আলাউদ্দিন একদল অনুসারী নিয়ে প্রতিষ্ঠান জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভয়-ভীতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আলাউদ্দিন গং এতটাই বেপরয়া যে, তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করার ফলে উপদেষ্টা তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিলেও বিআইডব্লিউটিসির প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বিআইডব্লিউটিসির প্রান্তিক সহকারী, তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী আলাউদ্দিনের বাড়ী পাবনায়। সে এক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিআইডব্লিউটিসিতে এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই সিন্ডিকেটে আছে প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জেসমিন আরা বেগম, মো: রাশিদুর রহমান চীফ অডিট অফিসার (চলতি দায়িত্ব), মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মো: ফজলে রাব্বি কর্তৃপক্ষের সাথে থেকে তাদের কাজগুলো হাসিল করে দেয়। আর এই সিন্ডিকেটের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন প্রশাসন পরিচালক শেখ মুহা: নাসিম পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) – নাসিম সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও প্রতিষ্ঠানে নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে বেড়ান। এই নাসিমের অর্থ যোগানদাতা প্রান্তিক সহকারী আসাদ । আসাদের পোস্টিং শরীয়তপুর ঘাটে হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত প্রধান কার্যালয়ে অফিস করেন। প্রশাসন পরিচালক নাসিমকে বিষয়টি একাধিকবার বলা সত্ত্বেও তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিয়োগ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসিতে যে কোন টেন্ডার হলে ডক-২ তে কর্মরত লেবার আনোয়ারকে ক্রয়াদেশের মূল্যের ৫% ভাগ দিতেই হবে। সরবরাহকারী যদি তাকে জিজ্ঞাসা করেন কেন তাকে ৫% দিবে, তখন তিনি বলেন “দল চালাতে ও ম্যানেজমেন্টকে হাতে রাখতে তাদের টাকা প্রয়োজন”— যা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে বলে অনেকে মনে করে।
আলাউদ্দিন কর্মচারী বিভাগে কর্মরত সিপিএম মো: ফজলে রাব্বির সহযোগিতায় উচ্চ অর্থের বিনিময়ে কর্পোরেশনের নিয়ম/ বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটের সহায়তায় নিয়োগ-বদলির বাণিজ্য করছে। অপরদিকে মো: নাসিরুল ইসলাম ডিসিপিএম (বহর) এর সহযোগিতায় বহর দপ্তরে কর্মরত আতিক উচ্চমান সহকারী ও মনির মাস্টার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে তাদের ইচ্ছামত জাহাজী বদলি বাণিজ্য করে বেড়াচ্ছে। যার অর্থ পৌছায় তথাকথিত নেতা আলাউদ্দিনের হাতে। আর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকেই বলা হয় ফ্যাসিস্ট। অথচ এই লোকগুলো সে ফ্যাসিস্ট আমলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে ভালো ভালো দপ্তরে পোস্টিং নিয়ে বহাল তবিয়তে চাকুরি করে গেছেন সেসব সহজেই ভূলে যান।
জাহাজী কর্মকর্তাদের বদলির নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বদলির দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর বেইজ করতে হয় ।বেইজে অবস্থানকালীন তাদেরকে বদলীর নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্যতা অনুসারে বদলি/পদস্থ করতে হবে। অথচ এই নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে অর্থাৎ প্রতি বদলিতে ৪/৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সিপিএম জনাব মো: ফজলে রাব্বির সহযোগিতায় বদলি বাণিজ্য করছে সিন্ডিকেটের প্রধান আলাউদ্দিন। আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাহাজী সকল বদলি/পদস্থ সম্পন্ন করা হয়েছে— যা বিআইডব্লিউটিসির ইতিহাসে বিরল। অথচ এই ফজলে রাব্বির গাফিলতিতে সংস্থার প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়। নারায়ণগঞ্জ হিসাব বিভাগে যদি সময়মত ম্যানেজার হিসাব বদলি/পদস্থ করা হত তাহলে সহকারী হিসাব অফিসার সংস্থার খাত থেকে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে পারত না। এ প্রসঙ্গে দুদকে মামলা অনুসন্ধানের কাজ চলছে। সহকারী হিসাব কর্মকর্তা একসময় আলাউদ্দিন গ্রুপের লোক ছিলেন। সিন্ডিকেটের কাজ চলে রাতের অন্ধকারে। বিআইডব্লিউটিসিতে অফিস টাইম নয়টা-পাঁচটা হলেও তারা বিআইডব্লিউটিসির অফিসে অবস্থান করেন রাত নয়টা পর্যন্ত।
যারা এই সিন্ডিকেটের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে কিংবা মুখ খুলে তাদেরকেই অন্যত্র বদলির হুমকি দেয় এই আলাউদ্দিন সিন্ডিকেট। এমনকি জাহাজী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই বছর পূর্ণ না হলেও অন্যের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন মিটিং-মিছিল করার নিয়ম না থাকলেও বিআইডব্লিউটিসির কর্মচারীরা মিটিং মিছিলে অনশগ্রহণ না করার কারণে প্রতিনিয়ত আলাউদ্দিন গংদের কাছে অপমান- অপদস্ত হচ্ছে। তাদের মন মতো পোস্টিং না হওয়ায় প্রধান প্রকৌশলী মো: জিয়াউল ইসলামের অফিস কক্ষে ঢুকে তার সাথে মারমুখী আচরণ করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেরীতে মাস্টার পদস্থ না করার কারণে বাহির থেকে লোকবল এনে বাপ্পি কুমার অধিকারী, জিএম (মেরিন) এর বিরুদ্ধে মিছিল ও স্লোগান দেন। এছাড়াও হেড অফিসে কর্মরত ম্যানেজার মো: নাজমুলকে তাদের অফিসে ডেকে হুমকি দেন। তখন উপস্থিত কিছু কর্মচারী তাকে রক্ষা করেন। এতকিছুর পরও বিআইডব্লিউটিসির প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই তাদের দুঃসাহস এতটাই বেড়েছে যে মো: ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে বিআইডব্লিউটিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ৩০/০৯/২০২৫ তারিখে আসাদ, আনোয়ার, শহিদুল ইসলাম খোকন, রীনা আক্তার, আনোয়ারসহ কিছু বহিরাগত লোকবল একত্রিত করে অত্র প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি তারা চেয়ারম্যানের সাথে মারমুখী আচরণ করে (ছবি সংযুক্ত)। অথচ এমন অসদাচরণের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা শেখ মুহা: নাসিম পরিচালক (প্রঃ) (চঃ দাঃ) ও জনাব জেসমিন আরা বেগম নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তারা চেয়ারম্যানকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে জনাব মো: ফজলে রাব্বি সিপিএম পদে বহাল থাকবে। এই রাব্বিকে সিপিএম পদে বসায় ফ্যাসিস্ট সরকারের ডেপুটি স্পিকার এ্যাড. শামসুল হক টুকু।
সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী শেখ মুহা: নাসিম, পরিচালক (প্রঃ) (চঃ দাঃ) যার এজিএম (বা.) পদ হতে ডিজিএম (বা.) পদে পদোন্নতিটা ছিল সাময়িক। উক্ত পদোন্নতির বিষয়ে বাণিজ্যিক অডিট আপত্তি থাকলেও নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তা নিষ্পত্তি করে। অথচ তা নিষ্পত্তিযোগ্য ছিল না। কারণ শেখ মুহা: নাসিম সাহেবকে যে শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল, অর্থাৎ তৎকালীন পরিচালক (বা.) কে তার পূর্ব পদ জিএম (বা.) তে পদাবনতি করে তার PRL মঞ্জুর করা হয়। তাই শেখ মুহা: নাসিম সাহেবের এজিএম পদ হতে ডিজিএম এর সাময়িক পদোন্নতি ও পরিচালক (প্রঃ) পদের পদোন্নতির সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন (কপি সংযুক্ত)।
৬। এই সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী পরিচালক (প্রঃ) (চঃ দাঃ) শেখ মুহা: নাসিম, মহাব্যবস্থাপক (প্রঃ) জেসমিন আরা বেগম, চীফ অডিট অফিসার মো: রাশিদুর রহমান এবং চীফ পার্সোনেল ম্যানেজার মো: ফজলে রাব্বির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এই সিন্ডিকেট নেতা আলাউদ্দিন গং দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানকে অচল করে রেখেছে এবং মবের রাজত্ব কায়েম করছে। যার দরুণ অফিসের সাধারণ শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির ভুক্তভোগী সাধারণ কর্মকর্তা কর্মকারীরা এমন অবস্থার দ্রুত সমাধান চান
Reporter Name 








