০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৭ মাসে হামলার শিকার ৯৭টি মাজার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ Time View

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

ফলো করুন
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে মাজার–সংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও হামলা হয় বলে জানিয়েছে মাকাম।

মাজারে হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সারা দেশে এসব হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মাকাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮০, ময়মনসিংহে ১৫৩, সিলেটে ৪৪, বরিশালে ৩৭ ও খুলনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ২ জন ঢাকার, ১ জন ময়মনসিংহের।
ফলো করুন
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে মাজার–সংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও হামলা হয় বলে জানিয়েছে মাকাম।

মাজারে হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সারা দেশে এসব হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মাকাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮০, ময়মনসিংহে ১৫৩, সিলেটে ৪৪, বরিশালে ৩৭ ও খুলনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ২ জন ঢাকার, ১ জন ময়মনসিংহের।

‘মাজারের অপরাধ ডা কী, তাঁরায় মাজারে হামলা করলো কেন?

হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১০টি ঘটনায় হামলা চালানোর আগে মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১টি।

হামলার শিকার ৪৪টি মাজার এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব মাজারে বার্ষিক ওরস আয়োজন বন্ধ রয়েছে। ৬টি মাজারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাকামের সমন্বয়ক আবু সাঈদ বলেন, প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম ও সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে ১২টি রাজনৈতিক দলকে মাকামের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব কটি দল চিঠি গ্রহণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, মাকাম গবেষণা দলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার, হামলার শিকার মুর্শিদপুর দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা মতিউর রহমান, চাঁদপুরী শাজ শাহ দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা গোলাম জিলানী প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Editor

শবে-বরাত আজ, ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসলিম উম্মাহ, দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত

১৭ মাসে হামলার শিকার ৯৭টি মাজার

Update Time : ০৩:২৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

ফলো করুন
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে মাজার–সংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও হামলা হয় বলে জানিয়েছে মাকাম।

মাজারে হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সারা দেশে এসব হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মাকাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮০, ময়মনসিংহে ১৫৩, সিলেটে ৪৪, বরিশালে ৩৭ ও খুলনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ২ জন ঢাকার, ১ জন ময়মনসিংহের।
ফলো করুন
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়
ঢাকার ধামরাইয়ে বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ফাইল ছবি: প্রথম আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে ১টি হামলা।

৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার দুই–তৃতীয়াংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রে ‘তৌহিদী জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে মাজার–সংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও হামলা হয় বলে জানিয়েছে মাকাম।

মাজারে হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সারা দেশে এসব হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মাকাম। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮০, ময়মনসিংহে ১৫৩, সিলেটে ৪৪, বরিশালে ৩৭ ও খুলনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ২ জন ঢাকার, ১ জন ময়মনসিংহের।

‘মাজারের অপরাধ ডা কী, তাঁরায় মাজারে হামলা করলো কেন?

হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১০টি ঘটনায় হামলা চালানোর আগে মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১টি।

হামলার শিকার ৪৪টি মাজার এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব মাজারে বার্ষিক ওরস আয়োজন বন্ধ রয়েছে। ৬টি মাজারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাকামের সমন্বয়ক আবু সাঈদ বলেন, প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম ও সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে ১২টি রাজনৈতিক দলকে মাকামের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব কটি দল চিঠি গ্রহণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, মাকাম গবেষণা দলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার, হামলার শিকার মুর্শিদপুর দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা মতিউর রহমান, চাঁদপুরী শাজ শাহ দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা গোলাম জিলানী প্রমুখ।